পোস্টগুলি

মন খারাপের গান

তুমি অনেক তারার দেশ  জুড়ে একাই নিরুদ্দেশ  তোমায় আজকে শোনালাম  আমার মন-খারাপের গান ....

নির্বাসন

ছবি
ওই ওরা সব আমাকে ফেলেই খেলতে গেলো, ঘুরে বেড়ালো কলকাতার পথে পথে... আমি অন্য কোনোখানে কাজের চাপে কর্তব্যের খাতিরে একা একা সেলিব্রেট করি একটা শীতের ছুটির দিন... নিজের ল্যাবে... "ami nei seisob elomelo dhulo-ghata mela tobu dekha jay tomader hasi-gan-khela........." এইসব হাসি-গান-খেলা, আমি তো ছিলাম সেই শীতবেলা ; তোমাদের ধুলোমাখা দিন, আমি কাজের গভীরে ঢুকে বরফকঠিন | তোমাদের ভালোবাসা কথাগুলো ছিল, আমার বড়দিন, বড় একা একা বড় অগোছালো ... তোমাদের আড্ডায়, পথচলা গানে নীরব স্রোতের মতো আমাকেও টানে; আমাকে খুঁজেছো জানি মায়াবী শহরে , আমি স্বপ্ন খুঁজি নিজের গভীরে...

বড়দিন

ছবি
সাদা দাড়ির বুড়ো নাকি গল্প বলে, গল্প বলে? কি করে ওই বরফ-দিনে? বল্গা হরিণ দিচ্ছে টেনে চাওয়া-পাওয়া উপহারের নানান ডালি, কেকের দোকান কাঁচের দেওয়াল রংমিশালী | বাইরে একটা ছোট্ট মেয়ের চোখে তখন পাথর চাপা ব্যথার মতন কষ্ট-কথা গুমরে কাঁদে, ফুটপাথে তাই রোগা শরীর, নামমাত্র ছেঁড়া-ফাটা পশম জামা-ই জুটলো না তার ভালোমতো এই বুড়োটা, এই মেয়েকে বড়দিনে ভুলবি না তো?

কুঁচো-কাঁচা দুঃখকথা......

ছবি
"সুখ নেইকো মনে / নাকছাবিটা হারিয়ে গেছে হলুদ বনে বনে" (১) একলা ছলাত্ছল  জল থৈ থৈ কাজল চোখে বৃষ্টি অনর্গল  (২) চোখ দেখেছে চোখ  তোর চোখে সেই মেঘ জমেছে বৃষ্টি আমার হোক  (৩) একলা এখন বাঁশি  কান্নাকথা ভিজিয়ে দিলো হারিয়ে যাওয়া হাসি  (৪) এলেবেলে সুর  ভুলতে চাইছি দুঃখ ভোলার বৃষ্টি হৃদয়পুর  (৫) ঘরের মধ্যে ঘর ঘর-ছাড়া এক গল্প তবু খুঁজছে তেপান্তর  (৬) এখন সবাই একা  একলা থাকার এই আকালে হঠাত্ ফিরে দেখা  (৭) শীতের দিনের ভোর  পিঠেপুলির গন্ধ-উঠোন থাকুক শুধু তোর   (৮) উঠছে গড়ে বেড়া  একটা গীটার ধুলোয় মোড়া  তারগুলো তার ছেঁড়া  (৯) যাবেই যদি যাক ভালোলাগার কথাগুলো দুঃখ হয়েই থাক (১০) সেসব পুড়িয়ে দিস  ভাঙা-ডানার একটা ঘুঘু  ডাকবে অহর্নিশ  (১১) বেকার কথার ভিড়  কথার ঘায়ে রূপকথাতে রোজ ধরেছে চিড় (১২) সেসব কথা কে আর বলে বল? লেপমুড়ি শীত একলা আমি হৃদয় ছলাত্ছল  (১৩) নদীর ওপর সেতু ...

প্রশ্ন

ছবি
বুবুনদিদির  জন্য লেখা ......... এত এত ইচ্ছেরা  আমাকে প্রতিদিন জড়িয়ে ধরে যে জমিয়ে রাখা সমস্ত স্বপ্নের ফোঁটাগুলো কেবল একটা জীবনের জন্য যথেষ্ট নয়, যথেষ্ট নয় আমার বেঁচে থাকা, বেঁচে থাকার স্বপ্ন...  এখন এত কান্না কোথায় ঢাকবে জীবন? স্বপ্নদের খুন করেছিলো যারা সেইসব ঘাতকের দল শাস্তির ভয়ে লুকিয়েছে এদিকে ওদিকে | সেইসব স্বপ্নের সাজি  তোমার আঁচলে ছড়িয়ে দিলাম উজাড় করে , শেষে তুমিও? আজ তুমি দেখ আমি হেঁটে যাই তোমারই আঙিনা ধরে, রোজ রোজ আমার স্বপ্নরা তবু মরে যায়.... স্বপ্ন, সেই সব প্রতিটা স্বপ্ন  যারা এক একটা   জীবনের মতো দামি ; সেইসব  এক একটা স্বপ্নকে বাঁচাতে কতবার কত কোটি নরকের দরজা খুলেছি আমি, কতবার মাথা নিচু করে পরাজয় স্বীকার করেছি , তবু কেন? কেন তুমি গলা টিপে খুন করো আমার স্বপ্নদের? আমি  জানি স্বপ্নের লাশ পিঠে নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে জীবন ফুরিয়ে আসে, আশা এটুকুই  যদি  ব্যবহারযোগ্য কিছু ভালোবাসাটাসা পাওয়া যায় আরো কিছু কিছু স্বপ্নের বিনিময়ে ; জীবন তো বড় ছোট, তোমার নিষ্ঠুরতার কাছে সে নেহাতই নগন্য, এতো...

দেশান্তর

ছবি
এই কবিতাটা আশিকুর রহমান ভাই-এর জন্য| এই মার্কিন মুলুকে পা দিয়ে এয়ার-পোর্ট এ যে মানুষটার সঙ্গে প্রথম আলাপ হল, তার সাথে বাংলাতে কথা বলতে পারবো ভাবিনি| আমাকে রিসিভ করতে এসেছিলো আমার-ই  ল্যাব এর যে সহ-গবেষক, সেই বাংলাদেশী মানুষটার জন্য পনেরো হাজার মাইল দুরেও সবসময় মাটির গন্ধ পাই.... অনেকদিন হয়ে গেল,  কপালে  খুব চেনা একটা হাতের স্পর্শ পাইনি | হাতে পায়েসের বাটি ধরিয়ে  খুব প্রিয় একটা গলার স্বর বলেনি, "নাও, এটা গিলে উদ্ধার করো আমাকে"| মাটির গন্ধে মেলা দেখা হয় না বহুদিন| ছোটবোনের রাখী আমার হাতে বাঁধা থাকে না আর,  যমের দুয়ারে কাঁটা পড়ে, আর আমি পথ হাঁটতে হাঁটতে আজ বহুদূরে ... টিফিনের পয়সা জমিয়ে ভাইয়ের জন্য লাটাই কিনে গর্বিত মুখে বাড়ি ফিরেছিলাম সেই কবে, মনেই পড়েনা ভাইয়ের সেই হাসিটুকু  | সেই যে মানুষটা আমার জন্য কলেজ শেষে  দাঁড়িয়ে থাকতো  একসাথে  একটু ঘুরে ঘুরে  বাড়ি ফিরবে বলে, সেও অপেক্ষা করেনি বহুদিন| অথচ  আজো পিঠে-পুলির গন্ধে  ওদের  আঙিনা ভরে ওঠে, আজ-ও মেলা বসে, ধুলো পায়ে হাঁটে ওরা সব, ...

পাখি

ছবি
পাখি ,তুই  মনখারাপের  রাতে  খুচরো  চোখের  জল  পেরিয়ে  নীরব  অপেক্ষাতে  আমার  জন্য  একলা  বসে   বৃষ্টি  নিয়ে  খেলিস... তোর  কিসের  এত্ত  নালিশ ? মেঘ -পাহাড়ি  শহর  আমার  কাঁদে  আর  লুকিয়ে  রাখা  নোনতা-জলে  ভিজে  তোর-ই  জন্য  একলা  হাঁটি  ছাদে ....